১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, বুধবার | বাংলা কনভার্টার
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি-১৪, বারি-১৫, টোরি-৭ বা মাঘি সরিষা ও রাই সরিষার এ বাম্পার ফলনের আসা করছে চাষীরা। সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে ও দেখা যাচ্ছে। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে উৎপাদন বেশি থাকায় ফরিদপুরের সদরপুরের কৃষি অঞ্চলে সরিষার আবাদ বৃদ্দি পেয়েছে। ফসলী মাঠে এখন শুধুই হলুদের সমারহ। দৃষ্টি জুড়ে সরিষার হলুদ গাঁদার চিঠি। আর ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত ও রয়েছে মৌমাছির দল।
প্রতি বছরের মত এ বছরও বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে সদরপুর জেলার চাষীরা বিনা চাষে সরিষার বীজ আবাদ করেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। সরিষা চাষ করতে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। কম খরচে ও সল্প সময়ে সরিষা ঘরে তুলা যায়। সরিষার আবাদের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে পরবর্তীতে ইরি-বোরো-পেঁয়াজ চাষাবাদের সময় সার ব্যবহারের খরচ কমে আসে।
কয়েকদিন পরেই শুরু হবে ক্ষেত থেকে সরিষা তুলার কাজ। এখন চলছে ক্ষেত পরিচর্যার কাজ। আমন ধান ও ইরি ধান, হালি পেঁয়াজ আবাদের মাঝে যে সময় থাকে, সে সময়ে চাষীরা জমি পতিত ফেলে না রেখে, সরিষার আবাদ করে থাকে এবং অল্প সময়ে সরিষা আবাদ করে বাড়তি ফসল ঘরে তুলে। সরিষা তুলার পর চাষীরা ইরিধান/হালি পেঁয়াজ আবাদ করে, ধান ও পেঁয়াজ উঠার পর পাট ও পাটের মধ্যে চাষীরা রিলে আমন ধান আবাদ করে থাকে। ফলে একই জমিতে বছরে চারটি ফসল উৎপাদন করে চাষীরা ব্যাপক লাভবান হবেন।
সদরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর উপজেলার ৭শ ৩০হেক্টর জমিতে সরকারি ভাবে সরিষার আবাদ হওয়ার কথা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ৯শত ৫০হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।